• বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শিক্ষা: বৈষম্য সৃষ্টির নব নব পদক্ষেপ

শিক্ষা: বৈষম্য সৃষ্টির নব নব পদক্ষেপ

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন একের পর এক চমক হাজির করছেন। বলছেন, বিগত হাসিনা সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। পুরানো সব কিছু ঝেড়ে ফেলে নতুন করে তৈরি করতে হবে। কথা সত্য। কিন্তু নতুন তৈরি করতে গিয়ে তিনি যে কয়টি নতুন সিদ্ধান্তের কথা জাতিকে জানিয়েছেন সেগুলো হলো– প্রাইমারি-মাধ্যমিক ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পরিবর্তে মেধা যাচাইয়ের ভর্তি পরীক্ষা, ৩য় একটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অনলাইনে পাঠদানের প্রস্তাব– ইত্যাদি। শিক্ষার অন্যসব মৌলিক বিষয় একই থাকছে।

এগুলো মূলত শ্রমিক-কৃষক ও দ্ররিদ্র জনগণের সন্তানদের শিক্ষাকে আরো সংকুচিত করারই কর্মসূচি। এসব কর্মসূচি দেশের বিত্তশালী অংশের সমর্থন পাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপক সাধারণ জনগণের অবস্থাটা কী?

লটারি প্রথার মাধ্যমে ভর্তিতে বিত্তশালীদের সন্তানদের ভালো স্কুলে একচেটিয়া ভর্তি অধিকার কিছুটা খর্ব হয়েছিল। সাধারণ জনগণের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ কিছুটা হলেও তৈরি হয়েছিল। আমাদের মতো ৩য় বিশ্বের দেশে মেধা নির্ভর করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উপর। ধনিক শ্রেণির সন্তানেরা মেধা বিকাশের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। যা শ্রমিক-কৃষক ও দরিদ্র জনগণের সন্তানরা পায় না। ফলে ভর্তি-পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মেধা যাচাই-এর ভিত্তিতে শিশুদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হলে তাতে এই সাধারণ জনগণের সন্তানরা ভালো বিদ্যালয়গুলোতে মোটেই জায়গা পাবে না। অন্যদিকে মেধা যাচাইয়ের এই ভর্তি পরীক্ষা রমরমা কোচিং বাণিজ্যকেও উৎসাহিত করবে। এদিক থেকেও ধনিক শ্রেণির সন্তানরাই তথাকথিত মেধা বিকাশে সুবিধা পাবে। ফলে তারাই ভালো স্কুলগুলোতে ভর্তি হওয়ার একচেটিয়া অধিকার লাভ করবে। এভাবে এই কর্মসূচি শিক্ষা-ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যকে আরো বৃদ্ধি করবে।

৩য় ভাষা বাধ্যতামূলক করা কোমলমতি শিশুদের উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ছাড়া কিছু নয়। শ্রমিক-কৃষকের সন্তানরা যেখানে ইংরেজিই ঠিকমতো শিখতে পারছে না সেখানে আরেকটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা গণবিরোধী প্রকল্প ছাড়া আর কী হতে পারে? ইংরেজি ব্যতীত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ভাষা হলো আরবি, হিন্দি, উর্দু, ফার্সি, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, রুশ, চীনা– ইত্যাদি। এসবের কয়জন শিক্ষক দেশে রয়েছেন? শহর বা রাজধানীতে কিছুটা যা-ও পাওয়া যাবে, কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি-বাংলা-অঙ্ক শেখানোর মতোই কোনো ভালো শিক্ষক পাওয়া যায় না। সেখানে উপরোক্ত বিদেশি ভাষাগুলোর শিক্ষক কোথা থেকে পাওয়া যাবে? এটা-কি ছেলেখেলা নাকি?

শুধুমাত্র মাদ্রাসায় শিক্ষিত আরবি শিক্ষক কিছু পাওয়া যেতে পারে। তাহলে কি এই কর্মসূচি প্রকৃত পক্ষে আরবির বোঝা শিশুদের উপর চাপিয়ে দেবার কোনো ধর্মবাদী চক্রান্ত? অনলাইন পাঠে শ্রমিক-কৃষকদের সন্তানেরা কি সুযোগ-সুবিধা পায় তা করোনাকালে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী (শ্রমিক-কৃষকের সন্তান) ঝরে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণি আত্মনির্ভরশীলভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা না করে সাম্রাজ্যবাদের উপরই নির্ভরশীল থাকে। যার খেসারত দিতে হয় শ্রমিক-কৃষককে।

শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা। যার মূর্ত রূপ হলো– সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, উৎপাদনমুখী, ধর্মবিযুক্ত, একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু দালাল শাসকশ্রেণি ও তার সরকার তা করতে সক্ষম নয়।

তাই, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-তরুণ-শিক্ষক-অভিভাবকসহ নিপীড়িত জনগণকে বৈষম্যহীন সমাজ ও বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ে সামিল হতে হবে।

শিক্ষা: বৈষম্য সৃষ্টির নব নব পদক্ষেপ

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন একের পর এক চমক হাজির করছেন। বলছেন, বিগত হাসিনা সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। পুরানো সব কিছু ঝেড়ে ফেলে নতুন করে তৈরি করতে হবে। কথা সত্য। কিন্তু নতুন তৈরি করতে গিয়ে তিনি যে কয়টি নতুন সিদ্ধান্তের কথা জাতিকে জানিয়েছেন সেগুলো হলো– প্রাইমারি-মাধ্যমিক ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পরিবর্তে মেধা যাচাইয়ের ভর্তি পরীক্ষা, ৩য় একটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অনলাইনে পাঠদানের প্রস্তাব– ইত্যাদি। শিক্ষার অন্যসব মৌলিক বিষয় একই থাকছে।

এগুলো মূলত শ্রমিক-কৃষক ও দ্ররিদ্র জনগণের সন্তানদের শিক্ষাকে আরো সংকুচিত করারই কর্মসূচি। এসব কর্মসূচি দেশের বিত্তশালী অংশের সমর্থন পাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপক সাধারণ জনগণের অবস্থাটা কী?

লটারি প্রথার মাধ্যমে ভর্তিতে বিত্তশালীদের সন্তানদের ভালো স্কুলে একচেটিয়া ভর্তি অধিকার কিছুটা খর্ব হয়েছিল। সাধারণ জনগণের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ কিছুটা হলেও তৈরি হয়েছিল। আমাদের মতো ৩য় বিশ্বের দেশে মেধা নির্ভর করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উপর। ধনিক শ্রেণির সন্তানেরা মেধা বিকাশের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। যা শ্রমিক-কৃষক ও দরিদ্র জনগণের সন্তানরা পায় না। ফলে ভর্তি-পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মেধা যাচাই-এর ভিত্তিতে শিশুদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হলে তাতে এই সাধারণ জনগণের সন্তানরা ভালো বিদ্যালয়গুলোতে মোটেই জায়গা পাবে না। অন্যদিকে মেধা যাচাইয়ের এই ভর্তি পরীক্ষা রমরমা কোচিং বাণিজ্যকেও উৎসাহিত করবে। এদিক থেকেও ধনিক শ্রেণির সন্তানরাই তথাকথিত মেধা বিকাশে সুবিধা পাবে। ফলে তারাই ভালো স্কুলগুলোতে ভর্তি হওয়ার একচেটিয়া অধিকার লাভ করবে। এভাবে এই কর্মসূচি শিক্ষা-ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যকে আরো বৃদ্ধি করবে।

৩য় ভাষা বাধ্যতামূলক করা কোমলমতি শিশুদের উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ছাড়া কিছু নয়। শ্রমিক-কৃষকের সন্তানরা যেখানে ইংরেজিই ঠিকমতো শিখতে পারছে না সেখানে আরেকটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা গণবিরোধী প্রকল্প ছাড়া আর কী হতে পারে? ইংরেজি ব্যতীত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ভাষা হলো আরবি, হিন্দি, উর্দু, ফার্সি, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, রুশ, চীনা– ইত্যাদি। এসবের কয়জন শিক্ষক দেশে রয়েছেন? শহর বা রাজধানীতে কিছুটা যা-ও পাওয়া যাবে, কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি-বাংলা-অঙ্ক শেখানোর মতোই কোনো ভালো শিক্ষক পাওয়া যায় না। সেখানে উপরোক্ত বিদেশি ভাষাগুলোর শিক্ষক কোথা থেকে পাওয়া যাবে? এটা-কি ছেলেখেলা নাকি?

শুধুমাত্র মাদ্রাসায় শিক্ষিত আরবি শিক্ষক কিছু পাওয়া যেতে পারে। তাহলে কি এই কর্মসূচি প্রকৃত পক্ষে আরবির বোঝা শিশুদের উপর চাপিয়ে দেবার কোনো ধর্মবাদী চক্রান্ত? অনলাইন পাঠে শ্রমিক-কৃষকদের সন্তানেরা কি সুযোগ-সুবিধা পায় তা করোনাকালে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী (শ্রমিক-কৃষকের সন্তান) ঝরে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণি আত্মনির্ভরশীলভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা না করে সাম্রাজ্যবাদের উপরই নির্ভরশীল থাকে। যার খেসারত দিতে হয় শ্রমিক-কৃষককে।

শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা। যার মূর্ত রূপ হলো– সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, উৎপাদনমুখী, ধর্মবিযুক্ত, একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু দালাল শাসকশ্রেণি ও তার সরকার তা করতে সক্ষম নয়।

তাই, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-তরুণ-শিক্ষক-অভিভাবকসহ নিপীড়িত জনগণকে বৈষম্যহীন সমাজ ও বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ে সামিল হতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র